সমস্যা আসবেই, তাতে কি?


ক্রমাগত ধারাবাহিকভাবে ভাল থাকা আমাদের পক্ষে কতটা সম্ভব? আসলেই হয়তো এটা অসম্ভব। প্রতিটি সম্ভাবনাময় জীবনের

অধিকাংশ মানুষের জীবনই জর্জরিত বিভিন্ন সমস্যায়।কেউ পুরোপুরি সমস্যা মুক্ত নন। কেউবা সমস্যা সমাধানের চেষ্টা করে উল্টো নতুন আরও একটি সমস্যায় জড়িয়ে পড়েন। বাস্তবিক অর্থে উটুপিয়া বা আদর্শিক সুখের স্বর্গ তো কাল্পনিক।

 

আমার শিক্ষাজীবনের কোন এক পর্যায়ে দুজন মানুষকে পেয়েছিলাম আমি। আমার সহপাঠী। অনেকগুলো মূহুর্ত তাদের সাথে কাটিয়েছি আমি। একজন এসেই হা হুতাশ শুরু করতো। তার মাথার উপর অনেক টেনশন। ক্যারিয়ার টা কোনদিকে যাবে, চাকরীটা হলোনা, কি করলে হবে, এই টেনশন, সেই টেনশন। তার টেনশনগুলোর বর্ণনা হয়তো আমি সঠিক ভাবে দিতে পারবো না। কিন্তু আমাদের হৃদয়টা ব্যাথাতুর করে তুলত তার টেনশন। মানুষ টাকে ভাল লাগতো তবুও অনেক। তার নামের শেষ অংশটুকুর সাথে মিলিয়ে আমরা তার নাম দিয়েছিলাম “টেনশন বৈদ্য”। আরেকজন ক্লাশে খুব কম আসতো। মাঝে মাঝে অনেক দেরী করেও আসতো। আমরা জিজ্ঞেস করলে বলতো, কঠিন প্রব্লেম এ পড়ছি রে ভাই। প্রায় প্রতিদিনই তার এই প্রবলেমের কথা আমরা শুনে যেতাম। তার নাম দিয়েছিলাম আমরা “প্রবলেম যুবায়ের”। মাঝে মাঝে প্রবলেম না থাকলেও জিজ্ঞেস করতাম, যুবায়ের ভাই,আজ কি প্রবলেম?, হাসতেন উনি, বলতেন- ঐ মিয়া, প্রবলেম তো মানুষেরই হয়,নাকি।

 

হ্যা, চলতে গেলে আমাদের তো বিভিন্ন সমস্যার সম্মুখিন হতেই হয়। প্রতিটি সমস্যাই প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে আমাদের নতুন কিছু শেখায়। আর সমস্যা যেহেতু আছে, তার কোন না কোন সমাধান তো অবশ্যই আছে। এ সমাধানও আমাদের খুজে নিতে হবে। খেয়াল রাখতে হবে,সমস্যা সমস্যা করে সময় নষ্ট করে সমস্যার অন্তর্জালে আমরা কেউ যেন হারিয়ে না যাই।

 

সফলতার পথটা কখনো মসৃন নয়। এ পথটা সমতল নয়, এবড়ো থেবড়ো। এ পথে শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত অনেক প্রতিবন্ধকতা আসবে। অনেক গুলো সমস্যা আপনার কাধে ভর দিয়ে আপনাকে মাটির সাথে মিশিয়ে দিতে চাইবে। তাই বলেকি আপনি বসে থাকবেন। কখনোই না। নিজের মনোবলকে চাঙা করুন। সমস্যাটাকে মোকাবিলা করুন। ব্যর্থ হয়েছেন তাতে কি, আবারও চেষ্টা করুন। সমস্যা সমাধান করে সফল আপনিই হবেন। নিজের উপর বিশ্বাস রাখাটা এ সময় খুবই জরুরী।

 

সমস্যার সময়গুলোতে আপনার মনকে নিয়ন্ত্রনে রাখুন।মাথা ঠান্ডা করে ভাবুন।কোন না কোন পথ তো আপনার জন্য অবশ্যই খোলা আছে। তখন আবেগ-অনুভূতি, ভাবনা এবং গৱেষণামূলক চিন্তা –চর্চার দরকার পড়ে । সমস্যা চিহ্নিত করণ থেকে শুরু করে সমাধানে গিয়ে পৌঁছোনো অব্দি প্রতিটি ধাপে তথ্য সংগ্রহ করে যেতে হবে। নতুন করে পাওয়া তথ্যগুলো সমস্যাটি নিয়ে পুনর্বিবেচনা করবার জন্যে তোমার উপর চাপ তৈরি করতে পারে। বিকল্প উপায়গুলো কাজ না দিলে নতুন বিকল্পের সন্ধান করতে হতে পারে। সমাধানের পথে এগুনো কিছু পদক্ষেপ এক সঙ্গে দিতে হতে পারে, অথবা ছেঁটে দিতে হতে পারে।

 

কিছু প্রশ্নগুলোকে বিবেচনায় আনতে পারেন। সমস্যাটি কী? এটা কি সত্যি আপনার সমস্যা? সমস্যাটি কি আপনি একাই সমাধান করতে পারবেন? এর কি সহজ কোনো সমাধান রয়েছে? এটাই কি আসল প্রকৃত সমস্যা না , এরচে’ও বড় একটা সমস্যার সামান্য অংশ মাত্র? এ যদি পুরোনো সমস্যা হয়, তবে আগের সমস্যাতে কী ভুলহলো? সমস্যাটার সমাধান তাৎক্ষণিকভাবে করাটা কি দরকার? না ধীরে ধীরে করলেও চলবে? সমস্যাটার নিজে নিজেই সমাধান বেরিয়ে যাবে বলে মনে করা যেতে পারে কি? অবহেলা করলে কি বিপদ ডেকে আনা হবে? সমস্যাটিতে নীতি সম্পর্কিত কোনো বিষয় জড়িয়ে আছে কি ? সন্তোষজনক সমাধানের জন্যে কেমন সব সর্ত পূরণ হতে হবে? কোনো কিছু যদি অপরিবর্তিত থেকে যায় তবে সেগুলো সমস্যা সমাধান করতে গিয়ে অসুবিধে ফেলবে কি? এইসব প্রশ্নগুলোর উত্তর পেয়ে গেলে আশা করি আপনি ধীরে ধীরে আপনার মহা সমস্যাটির সমাধানের পথে অনেকখানিই এগিয়ে যাবেন। মনে রাখবেন আপনার এ চলার পথে, সমস্যা আসবেই,তাতে কি? জীবনের কোন পর্যায়েই সমস্যা আসলেই একেবারেই মুষড়ে পড়বেন না। হতাশ হবেন না। সমাধানেরও অনেকগুলো পথ আছে। এর কোন একটি পথই আপনাকে সফলতার শীর্ষে পৌছে দেয়ার জন্য যথেষ্ট। সফলতা জাদুর কাঠি নয় যে, আপনি ছুঁয়ে দিলেই সব হয়ে যাবে। আপনাকে নিরন্তর চেষ্টা করতে হবে, এগিয়ে যেতে হবে। সেহেতু নিজেকে সফলদের কাতারে দেখতে নিজেকে সেইভাবে গড়ুন এবং সাধনা করে যান।ইনশাহাল্লাহ সফল আপনি হবেনই একদিন।

 

পরিশেষে একটি কথাই বলতে চাই, সমস্যা সমাধানের চেষ্টা করতে হবে। হায়-হতাস করা উচিৎ হবেনা। আর সবসময় অনুভব করতে হবে “জীবন সুন্দর”। 

564 Views